মুহাম্মদ আলী,সিনিয়র রিপোর্টার: বান্দরবান পার্বত্য জেলার সদর উপজেলাধীন বান্দরবান পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডস্থ বনরুপা ছিদ্দিক নগরের ঐতিহ্যবাহী ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র কমপ্লেক্স বান্দরবান এর ৩১তম বার্ষিক সভা/ মাহফিল-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়।
বার্ষিক সভা উপলক্ষে মাদ্রাসা মাঠ প্রাঙ্গণে ০৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা হতে ০৯ জানুয়ারী রোজ জুমাবার দুইদিন ব্যাপী কেরাত মাহফিল ও ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
৩১তম বার্ষিক মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল্লামা মুফতি ওবায়দুল্লাহ হামজা দা.বা. পরিচালক, আল- জামিয়াতুল ইসলামীয়া পটিয়া, চট্টগ্রাম।
প্রধান বক্তা হিসেবে কোরআন ও হাদিসের আলোকে আলোচনা করেন মুফতি শামসুদ্দিন জিয়া সাহেব দা.বা. শায়খুল হাদীস ও প্রধান মুফতি, আল- জামিয়া আল- ইসলামিয়া, পটিয়া,চট্টগ্রাম। ইসলামী শিক্ষা কেন্দ্র (কমপ্লেক্স) বান্দরবান মাদ্রাসা’র পরিচালক, মুহতামিম আলহাজ্ব হাফেজ মাওলানা মো:হোসাইন সাহেব এর সভাপতিত্বে বার্ষিক মাহফিলে ইসলামিক আলোচনা করেন আল্লামা জাহেদুল্লাহ দা.বা.
উস্তাযুল হাদীস, আল-জামিয়া আল- ইসলামিয়া, পটিয়া ও মুহতামিম, ফয়জিয়া তাজ: কুরআন মাদ্রাসা, ইছাপুর, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম। মুফতি মুহিবুল্লাহিল বাকী নদভী দা.বা. সিনিয়র পেশ ইমাম, জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম, ঢাকা। মুফতি মীর শামসুদ্দীন বড়াইলী দা.বা. মুহতামিম,আবু হুরায়রা (রাঃ) মাদ্রাসা মডেল টাউন খতীব, দেওয়ান বাড়ি জামে মসজিদ, কেরানীগঞ্জ, ঢাকা।
এছাড়াও মাহফিলে আলোচনা করেন বান্দরবান কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ খতিব মাওলানা আলা উদ্দিন ইমামী, বান্দরবান বাজার শাহী জামে মসজিদ খতিব মাওলানা এহসানুল হক মঈন, অত্র মাদ্রাসার প্রাক্তন ছাত্র বান্দরবান সদর উপজেলা জামেমসজিদ খতিব মাওলানা শহিদুল ইসলাম,ভরালিখালী মসজিদের খতিব মাওলানা মো: তারেক,সুন্দর কেরাত পরিবেশন করেন অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ছাত্র ও বান্দরবান থানা জামেমসজিদ খতিব কারী মাওলানা মারুফ, অত্র মাদ্রাসার বান্দরবান লালমোহন বাগান জামেমসজিদ খতিব মাওলানা হেলাল উদ্দিন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা জামায়াতের আমীর এসএম আব্দুস সালাম আজাদ,বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য এডভোকেট আবুল কালাম, জেলা পরিষদ সদস্য মো: নাছির উদ্দীন,
অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ছাত্র সাংবাদিক মুহাম্মদ আলী,ইব্রাহিম মাস্টার, এড.আলমগীর,প্রাক্তন ছাত্র মাওলানা জমির উদ্দিন প্রমুখ।
মাহফিলে ৫জন প্রাক্তন কোরআন হাফেজদের দস্তারবন্দী (পাগড়ি)ও সনদ প্রদান করা হয়।
মাহফিলে বক্তারা বলেন,আজকের এই পবিত্র মাহফিল আমাদের জন্য এক আত্মশুদ্ধি ও ঈমানি জাগরণের সুযোগ এনে দিয়েছে। এ ধরনের মাহফিল কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি দ্বীনি শিক্ষা ও আমলের অনুপ্রেরণা লাভের শ্রেষ্ঠ মাধ্যম।
মাদ্রাসা হলো ইসলামী জ্ঞানের আলোকবর্তিকা, যেখানে শিশু-কিশোরেরা কুরআন, হাদীসসহ ইসলামী আদর্শে শিক্ষিত হয়ে সমাজে দ্বীনের খেদমতে নিয়োজিত হয়। এই মাহফিলের মাধ্যমে আমরা তাদের শিক্ষা, চরিত্র গঠন ও দ্বীনী দায়িত্বের অগ্রগতির এক সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন পাই এবং তাদের উৎসাহ জোগাতে পারি। আমাদের উচিত এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দান, দুআ ও সহযোগিতার মাধ্যমে সহযোগিতা করা, যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সঠিক ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হতে পারে। আসুন, আমরা সবাই এই মাহফিল থেকে হেদায়াতের আলো গ্রহণ করি এবং তা নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করি।
Leave a Reply